Online Jobs BD
কাজ খুঁজছেন · সারা বাংলাদেশে · শুধু মেয়েদের জন্য

স্মার্টফোন আছে? ঘরে বসেই কাজ শুরু করতে পারেন

ফেসবুক পেজের ইনবক্সে গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, অর্ডার কনফার্ম করতে ফোন করা, পোস্ট করা। কম্পিউটার লাগে না, স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট হলেই চলে। আমরা এখন শুধু মেয়েদের নিচ্ছি, ন্যূনতম যোগ্যতা এসএসসি পাস। দেশের যেকোনো জেলা থেকে আবেদন করা যায়।

আগে সবচেয়ে জরুরি কথাটা বলে নিই। রেজিস্ট্রেশন ফি নেই। ট্রেনিং ফি নেই। সিকিউরিটি মানি নেই। আইডি কার্ড বানানোর ফি নেই। আমাদের আয় আসে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে, আপনার কাছ থেকে নয়। কেউ আমাদের নাম করে টাকা চাইলে টাকা দিবেন না, সাথে সাথে আমাদের জানাবেন।

কী কাজ, কত টাকা

সব কাজ ছোট আর নির্দিষ্ট। কাজ শেষ করে প্রমাণ জমা দিবেন, যাচাইয়ের পর ব্যালেন্সে টাকা যোগ হবে।

কাজএককআপনি পাবেন
কমেন্টের উত্তরপ্রতি কমেন্ট৳৩
ইনবক্স কথোপকথনপ্রতি সম্পূর্ণ কথোপকথন৳৫
অর্ডার কনফার্মেশন কলকনফার্ম হলে৳১০
অর্ডার কল, গ্রাহক ধরেননি৩ বার চেষ্টার পর৳৪
পোস্ট পাবলিশক্যাপশন লিখে দেওয়াসহ৳১২
পোস্ট শিডিউলক্যাপশন দেওয়া থাকলে৳৬
কুরিয়ারে অর্ডার এন্ট্রিপ্রতি অর্ডার৳৩
গ্রুপ মডারেশনপ্রতি দিন৳৫০
গ্রুপে প্রোমোশন ঐচ্ছিকপ্রতি পোস্ট, দিনে সর্বোচ্চ ৫টা৳৫

নতুনদের জন্য: প্রথম ২০টা কাজ ট্রেনিং রেটে, অর্থাৎ উপরের রেটের ৭০%। এই সময়টায় আপনার কাজ বেশি করে যাচাই করা হয় আর ভুল হলে শিখিয়ে দেওয়া হয়। ২০টা কাজ শেষ হলে পূর্ণ রেট চালু হয়ে যায়।

মাসে আসলে কত আয় হবে

দিনে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা নিয়মিত কাজ করলে সাধারণত মাসে ৳৩,০০০ থেকে ৳৬,০০০। বেশি সময় দিলে আর ভালো কাজ করলে এটা বাড়ে।

প্রথম মাসে এর চেয়ে কম হবে। কারণ কাজ শিখতে সময় লাগে, প্রথম ২০টা কাজ ট্রেনিং রেটে, আর নতুনদের বড় কাজ কম দেওয়া হয়। এটা লুকিয়ে বলার কিছু নেই, আগেই জেনে রাখা ভালো।

যারা বলে ঘরে বসে দিনে হাজার টাকা, তারা প্রায় সবাই আগে টাকা নেয়। এই কাজে মোবাইলে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ১১০ টাকার মতো ওঠে, এর বেশি কেউ বললে হিসাবটা মিলিয়ে দেখবেন।

শুরু থেকে টাকা পাওয়া পর্যন্ত

রেজিস্ট্রেশন

নাম, মোবাইল নম্বর আর কোন কাজগুলো পারবেন সেটা জানান। দুই মিনিটের কাজ, কোনো টাকা লাগে না।

যাচাই ও টেস্ট

আমরা ফোনে ৫ মিনিট কথা বলি। তারপর ৫টা কাল্পনিক গ্রাহকের মেসেজ পাঠাই, আপনি উত্তর লিখবেন।

ট্রেনিং ও কাজ

পাশ করলে হোয়াটসঅ্যাপে ছোট ভিডিও ট্রেনিং যায়। তারপর ড্যাশবোর্ডে খোলা কাজ দেখতে পাবেন।

বিকাশে টাকা

কাজ অনুমোদিত হলে ব্যালেন্স বাড়ে। ৳৫০০ জমলেই তোলা যায়, পেমেন্ট যায় প্রতি বৃহস্পতিবার।

কারা ভালো করেন

এই কাজে সবচেয়ে বড় যোগ্যতা টেকনিক্যাল কিছু নয়। যিনি অচেনা মানুষের সাথে ভদ্রভাবে কথা বলতে পারেন, বানান মোটামুটি ঠিক লেখেন, নিজে থেকে বুঝে নেন, আর কথা দিলে সময়মতো কাজ শেষ করেন, তিনিই ভালো করেন। প্রতিটা কথা ধরিয়ে দিতে হয় এমন কাউকে দিয়ে এই কাজ চলে না।

যা লাগবে: ন্যূনতম এসএসসি পাস, একটা স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, দিনে অন্তত ২ ঘণ্টা নিরিবিলি সময়, আর কল করার জন্য একটা সচল নম্বর। বয়স ১৮ বা তার বেশি হতে হবে, আর যাচাইয়ের জন্য NID লাগবে। বর্তমানে আমরা শুধু নারী আবেদনকারী নিচ্ছি।

সাধারণ প্রশ্ন

রেজিস্ট্রেশন করলেই কি কাজ পাব?

না, এবং এটা আমরা সরাসরি বলে রাখি। আমাদের যতজন ক্লায়েন্ট আছে তত ওয়ার্কারই আমরা সক্রিয় রাখি, কারণ কাজ দিতে না পারলে আপনার সময় নষ্ট হয় আর আপনি বিশ্বাস হারান। এখন কাজ না থাকলে আপনার নম্বর তালিকায় থাকবে, কাজ এলে ফোন করব।

শুধু মেয়েদের নেওয়া হয় কেন?

আমাদের ক্লায়েন্টদের বেশিরভাগই নারীদের পণ্য বিক্রি করেন, আর তাঁদের গ্রাহকরাও বেশিরভাগ নারী। সেই গ্রাহকরা একজন নারীর সাথে কথা বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাই অর্ডার বেশি কনফার্ম হয়। এর বাইরে আমাদের লক্ষ্য হলো ঘরে থাকা মেয়েদের হাতে নিজের একটা আয়ের উৎস তুলে দেওয়া। ছেলেরা আবেদন করলে তালিকায় রাখা হয়, তবে এখন ডাকা হচ্ছে না।

আপনাদের বাইরে অন্য কোথাও চাকরি পাওয়া যায়?

হ্যাঁ। আমাদের সাথে কাজ করে যাঁরা ভালো করেন, তাঁদের আমরা অন্য পেজ আর প্রতিষ্ঠানের কাছে সুপারিশ করি, পার্ট-টাইম বা ফুল-টাইম দুইভাবেই। এটা বাড়তি সুযোগ, নিশ্চয়তা নয়। আগে আমাদের কাজে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে, সুপারিশটা তখনই মূল্য পায়।

NID কেন লাগে?

আপনি অন্যের ব্যবসার গ্রাহকের সাথে কথা বলবেন, তাই ক্লায়েন্টের কাছে আমাদের দায় থাকে। NID শুধু পরিচয় যাচাইয়ের জন্য, অন্য কোথাও ব্যবহার হয় না আর কারও সাথে শেয়ার করা হয় না।

গ্রুপে প্রোমোশনের কাজটা কি ঝুঁকির?

হ্যাঁ, কিছুটা। ফেসবুক গ্রুপে বেশি প্রোমোশনাল পোস্ট করলে আইডিতে রেস্ট্রিকশন আসতে পারে। এজন্যই এই কাজটা ঐচ্ছিক, দিনে সর্বোচ্চ ৫টা পোস্টে সীমিত, আর শুধু সেসব গ্রুপে যেখানে আপনি আগে থেকেই সদস্য এবং নিয়ম এটা অনুমতি দেয়। না করতে চাইলে বলবেন, অন্য কাজ দেওয়া হবে, কোনো সমস্যা নেই।

কাজ জমা দেওয়ার পর বাতিল হলে?

কেন বাতিল হলো সেটা লিখে জানানো হয়। ঠিক করে আবার জমা দিতে পারবেন। ইচ্ছাকৃত ভুল বা গ্রাহকের সাথে খারাপ ব্যবহার ছাড়া কাজ বাতিল হওয়াটা বিরল।

দেরিতে টাকা দেওয়ার ঘটনা ঘটে?

পেমেন্ট প্রতি বৃহস্পতিবার যায়। কোনো কারণে দেরি হলে আগেই জানানো হবে। ক্লায়েন্ট মাসের শুরুতে টাকা দেন আর আপনি সপ্তাহ শেষে পান, তাই টাকা আটকে যাওয়ার কারণ নেই।